Featured Post

কোলকাতার কলেজে ভর্তি কি ভাবে হবেন এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য গুলি জেনেনিন

List of admission process in Kolkata Colleges উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল বের হওয়ার সাথে সাথে  শুরু হয়ে গেছে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফর্ম ফিল...

May 2, 2018

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জীর ভূমিকা – প্রারম্ভিক পর্ব- ১


      কিছুদিন ধরে দেখছি পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পরিত্রাতা বাঙ্গালির জনক ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জীকে নিয়ে এক বিতর্কের আবির্ভাব ঘটেছে, কেও তাঁহার মুর্তিতে কালিমালিপ্ত করছে আবার কেহ তাঁহার জীবনী নিয়ে নির্মিত ছবি ‘1946 Calcutta Killing’ দাঙ্গা এই পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা হলে প্রকাশ হতে দিচ্ছেন না। কিন্তু কেন এই বাংলার নায়ককে কি শুধু আমরা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে তাঁকে অবহেলিত করে রেখেছি ? আজ আমি আমার সামান্য জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁহার পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে ভূমিকা বিষয়ে আলোচনা করবো। লেখাটি দুইটি পর্বে প্রকাশিত হবে। প্রথম পর্বে থাকছে তাঁহার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিস্তার এবং ভুমিকা আদর্শ এবং দ্বিতীয় পর্বে থাকছে বাংলা শিক্ষা বিস্তারে সম্পুর্ন করা কাজ গুলো পয়েন্ট হিসাবে। 

     বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখ্যার্জীর সুযোগ্য সন্তান ছিলের পশ্চিমবঙ্গের পরিত্রাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জী। ১৯১৭ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জী কলকাতার ভবানীপুরে অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদ মিত্র ইন্সটিউশন থেকে সরকারী বৃত্তি সহ ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। তিনি সেইসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২১ সালে বিএ এবং ১৯২৩ সালে এমএ পাশ করেছিলে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে। এর পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে ১৯২৬ সালে ব্যারিস্টার পরীক্ষার জন্য বিলেতে ব্রিটেন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান । মাত্র ২৩ বৎসর বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য হন। এখানে একটু বলে রাখি যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁহার গভীর অনুরাগ ছিল। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম হয়ে বঙ্কিমচন্দ্র রৌপ্য এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন। তাঁহার পিতা স্যার আশুতোষ মুখ্যার্জীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে সারা ভারতে প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েই বাংলা ভাষায় শ্রেষ্ঠ ডিগ্রী লাভের নিয়ম আনা হয়। কিন্তু বর্তমানের মতন তখনো শিক্ষিত স্বার্থলোভী বুদ্ধিজীবিরা স্বার্থের লোভে বর্তমানের মতন তখনো এই ঐতাহাসিক পদক্ষেপকে নিয়ে নানান রকম রঙ্গব্যঙ্গ করে রচনা এবং কার্টুন প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু স্যার আশুতোষ মুখ্যার্জীর সুযোগ্য সন্তান ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জী বাংলায় এম এ পরীক্ষা দিয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করে স্বার্থলোভী বুদ্ধিজীবিদের মুখে কুলূপ এটে দিয়েছিলেন। ( এম এ তাঁহার বিষয় ছিলো The Social Plays of Girish Chandra). 


   বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য হিসাবে তিনি ১৯২৬ সালে লন্ডনে বিশ্ববিদ্যালয় সন্মেলনে কলকাতা বিস্ববিদ্যালের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯২৯ সনে কংগ্রেস প্রার্থী রূপে বিধান পরিষদের সদস্য হন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে মতের মিল না হওয়াতে তিনি বিধান পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য হিসাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিষয়ক পরিকাঠোমা উন্নয়নের জন্যে তাঁহার অক্লান্ত পরিশ্রম আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে কান দিলে শুনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, তার নিয়ম কানুন, কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকবহল ছিলেন ছাত্র অবস্থার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা বা প্রত্যেক বিষয় ছিল তাঁহার হাতের মুঠোতে। তিনি পিতার আদর্শ শিক্ষাকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে মেনে পিতার স্বপ্নকে বাস্তবে আনতে অল্কান্ত ভাবে কাজ করে গেছিলেন। তাঁহার কাজ দেখে বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র বায় বলেছিলেন “বাপকা বেটা- যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান। এমন পরিশ্রম ও স্বার্থ ত্যাগ কেহই করিতে রাজী নয়”।


তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা করতে গিয়ে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভুত উন্নতি সাধ্ন করনে তাছাড়া বহু সাহিত্য পুস্তক তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস থেকে প্রকাস করেছিলেন। বাংলাতে তাঁহার পঞ্চাশের মন্বন্তর ও রাষ্ট্রসংগ্রামের এক অধ্যায় এবং তাঁহার দিন পঞ্জী প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বঙ্গ ভাষা প্রচার স্মিতির সভাপতি থাকা কালীন বাংলার বাইরে বাংলা ভাষা প্রচার এবং প্রসারের জন্য সহায়তা করেছিলেন। তিনি কটক বঙ্গ সাহিত্য সন্মেলনের সভাপতিও ছিলেন। স্যার আশুতোষ মুখ্যার্জীর স্বপ্ন ছিল কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয় হবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ , হার্ভাডের মতন শিক্ষা ব্যবস্থা। ভারতীয়রা এগিয়ে যাবে বিজ্ঞানের সঙ্গে। তিনি মনে করতেন জাতীয়তাবাদ মানে শুধু বোমা বন্দুকের প্রতীবাদে হয় না, জাতির শিক্ষা মেধার উন্নয়ন তার থেকেও গুরুত্বপুর্ন। শ্যামাপ্রসাদ পিতার এই আদর্শকে সার্থক করতে এবং বাংলাকে জাতীয়তাবাদী ভারতীয় সনাতন আদর্শের সঙ্গে বিশ্ব গৌরাম্বিত করতে চেষ্টা করে গেছিলেন। তাই তিনি কলকাতা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েসন ফর দ্য কাল্টিভিসন অফ সায়েন্স, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রভৃতির পরিষদের সদস্য এবং নীতিনির্দ্ধারক ও সংগঠক ছিলেন। তিনি বাংলার বহু সামাজিক সাংস্কতিক সংগঠনের সভাপতির পাশাপাশি আয়ুর্বেদ বিদ্যালয়ের / আরোগ্যশালা/ হাসপাতাল পরিচালনা সমিতির সদস্য রূপে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। তাঁহার বাঙ্গালী তথা বাংলা ভাষার বিস্তারের জন্য সর্ব প্রথম পদক্ষেপ ছিল ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার মাধ্যম হিসাবে বাংলা ভাষাকে প্রধান্য দান করা। তখন সেই সময় তাঁহাকে ডাঃ উপেন্দ্রনাথ ব্রক্ষ্মচারী বলেন আজ পিতার স্বপ্ন পুরনের জন্য পুত্রের গর্বের কারক। শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে এ কাজ সম্ভব হতো না। ১৯৩৪ সালে তিনি  মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসাবে মনোনিত হয়ে তিনি ভারতীয় মানসিকতায় ভারতীয় ইতিহাসের উপর বিশেষ জোর দিয়ে বাংলা ভাষা এবং বাংলার উন্নতিতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন। 

   
দ্বিতীয় পর্বে থাকছে তাঁহার বাংলা শিক্ষা বিস্তারে সম্পুর্ন করা কাজ গুলো পয়েন্ট হিসাবে। 

আমাকে মেইল করে তথ্য বা অন্য কোন বিষয় জানাতে পারেন 
jishu0007@gmail.com
Previous Post
Next Post

post written by:

0 comments: