Welcome to" Peace of Mind"

@ADutta Photography-Projects-Advertise আমার দেশ -আমার গর্ব - আমার পরিচয়

1:26:00 AM
0


          খবরটা প্রথম হঠাৎ শুনে কেমন একটা সরকারের প্রতি খটকা লাগছিলো, তারপর আবার মাত্র ২৫ কোটি টাকায় এতো বড় ঐতিহ্যময় স্থান আশ্চ্যর্্য বিষয় !! তাজমহলকে তিনবার, লালকেল্লা দুইবার আর রাষ্ট্রপতি ভবন বিক্রিকারি নটবরলাল আবার ফিরে এলো নাকি ?   

Adopt A Heritage স্কিমের দ্বারা এখন পর্যন্ত 93+Tourist Places , 303 + REGISTRATIONS FOR MONUMENT MITRAS and 4 Tourist Places Adopted করা হয়েছে

         
তারপর মনে হলো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘Adopt A Heritage’ নামক একটা স্কমের কথা। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে বলার আগে জেনেনি কি এই লালকেল্লা ?

        লালকেল্লা হল ভারতের দিল্লীতে অবস্থিত একটি ঐতহ্যময় স্থান যেখানে দিল্লী ভ্রমণ মানেই লাল দূর্গে একবার অন্তত যেতেই হবে। মোগল স্থাপনার এই অনন্য নিদর্শন নিজের চোখে না দেখলেই নয়। আর একটি স্থাপনা শুধু পাথরের দেয়াল নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে অযান্ত্রিক যুগের মেধা আর শিল্পমনের পরিচয়, জড়িয়ে আছে সেই সময়ের শাসকের গল্প, শ্রমিকের গল্প, জীবনের গল্প। তাই সময়কে যারা জানতে চান তারা বার বারই ছুটে যান প্রাচীন স্থাপত্যের কাছে।
১৬৩৮ সালে শাহ জাহান তার রাজধানী আগ্রা থেকে নিয়ে আসেন দিল্লীতে তখন তিনি এই দূর্গ নির্মাণের নির্দেশ দেন। তখন এই স্থানের নাম ছিল শাহজাহানাবাদ, বর্তমানে জায়গাটিকে আমরা পুরাতন দিল্লী হিসেবে চিনি। শুনা যায় প্রায় ৪ হাজার কর্মী ৮ বছর প্রতিদিন পরিশ্রম আগ্রা দুর্গের নির্মান কাজ সমাপ্ত করে। প্রথম দিকে এই দুর্গের নাম ছিল "কিলা-ই-মুবারক" ("আশীর্বাদধন্য দুর্গ"); কারণ এই দুর্গে সম্রাটের পরিবারবর্গ বাস করতেন। র্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক: প্রতি বছর ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লার লাহোরি গেট সংলগ্ন একটি স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন এবং জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ২০০৭ সালে লাল কেল্লা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

     এখন বিষয়টি হলো লালকেল্লা বিক্রিনিয়ে , প্রথমেই বলেছিলাম কেন্দ্রীয় সরকারের ‘AdoptA Heritage’ নামক একটা স্কমের কথা। আসলে এই স্কিমটি হল এই স্কিম এর আওতায় দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির সংস্কার করা হয়, সৌন্দর্য বাড়ানো হয় এবং পর্যটকদের ভারতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর জন্য সরকার একটা কোম্পনির সাথে কয়েক বছরের চুক্তি করে ঐতিহাসিক স্থানের উন্নতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আপনাদের জানিয়ে রাখি , এই অবস্থায় ঐতিহাসিক স্থান থেকে যে পরিমান লাভ হবে তার ১ শতাংশও কোম্পানিকে দেওয়া হবে না। ঐতিহাসিক স্থান থেকে হওয়া লাভের পুরোটাই যায় ভারত সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডারে। অর্থাৎ কোম্পনির সাথে শুধু ঐতিহাসিক স্থানের উন্নতির নিয়ে চুক্তি করা হয়। লালা কেল্লার ক্ষেত্রেও এই ধরণের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ডালমিয়া গ্রুপ ৫ বছরের জন্য লাল কেল্লার সংরক্ষণ করবে এবং ওয়ার্ল্ড ক্লাস সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করবে। আপনাদের জানিয়ে রাখি ডালমিয়া গ্রুপ এই ৫ বছরের মধ্যে পুরানো কিছু স্ট্রাকচার মেরামত করবে, কেল্লার বাইরে এবং ভেতরে 3d ম্যাপিং এর ব্যবস্থা করা হবে, ব্যাটারি চালিত গাড়ির জন্য চার্জিং স্টেশন গড়ে তোলা হবে,১০০০ স্কোয়ার ফুটের ভিজিটর ফ্যাসিলিটি সেন্টার, থিমেট্রিক ক্যাফেটেরিয়া গড়ে তোলা হবে। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যা যা করা উচিত তার সমস্থ কিছুই থাকবে লালা কেল্লার ভেতর।
 
তাই লালকেল্লা বিক্রি হয়নি এবং নটবরলাল আবার ফিরেও আসেনি । ফিরে আসলো শুধু স্বাধীনতার পর দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির ব্যবস্থা উন্নত করে ভারত তথা বিশ্ব দরবারের তাহার স্থানকে উন্নত করা।
লিখতে গিয়ে মনে পরে গেলো বন্ধু বাইকের কথা , যে কিনা সারভেসিং করার জন্য দোকান দার বাড়ি ঠেকে বাইক নিয়ে গেলো আর কিছু নিন্দুক বলছে কিনা বাইক বিক্রি করে দিয়েছে।

0 comments:

Post a Comment